দিল্লি আসছেন শি জিনপিং, কাটল সাসপেন্স! মোদির সঙ্গে বৈঠক হবে কি?

দিল্লি আসছেন শি জিনপিং, কাটল সাসপেন্স! মোদির সঙ্গে বৈঠক হবে কি?

৭ বছর পর ভারতে চিনা প্রেসিডেন্ট, ব্রিকসের মঞ্চে নজর মোদি-জিনপিং সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে

নয়াদিল্লি: অবশেষে কাটল সাসপেন্স। ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে বসছে ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন। চিনের বিদেশ মন্ত্রকও জিনপিংয়ের ভারত সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সাত বছর পর এটাই তাঁর প্রথম ভারত সফর।

জিনপিংয়ের সফর ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের নজর এখন নয়াদিল্লির দিকে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয় কি না, সেটিই আলোচনার অন্যতম বিষয়। এখনও পর্যন্ত চিনের তরফে এমন কোনও বৈঠকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।

সাত বছর পর ভারতে জিনপিং

শেষ বার ২০১৯ সালে ভারতে এসেছিলেন শি জিনপিং। তার পরের বছরই পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিনও তাদের চার সেনার মৃত্যুর কথা সরকারি ভাবে স্বীকার করেছিল। গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে।

পরবর্তী সময়ে সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য দুই দেশ একাধিক দফায় আলোচনা করেছে। গত বছর থেকে ভারত-চিন সম্পর্কেও কিছুটা বরফ গলার ইঙ্গিত মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে জিনপিংয়ের দিল্লি সফরকে তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মোদি-জিনপিং বৈঠকে কী হতে পারে?

দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হলে সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা-সহ একাধিক বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। ২০২০ সালের সংঘর্ষের পর তৈরি হওয়া আস্থার ঘাটতি কাটিয়ে কী ভাবে সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জিনপিংয়ের ভারত সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের চলমান উন্নতির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে দিতে পারে। তবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এখনও বিনিয়োগ, ভিসা এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত একাধিক বাধা রয়েছে।

ব্রিকসের মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত

এবারের ব্রিকস সম্মেলন ভারতের সভাপতিত্বে ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের এবারের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল ভাবনা—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব। সম্মেলনে বিশ্বশাসন, বহুপাক্ষিকতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

বিশেষ করে চলতি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের আবহে এবারের ব্রিকস সম্মেলন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সদস্য দেশগুলির মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ভারত ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা করছে।

জিনপিংয়ের দিল্লি সফর সেই কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ব্রিকসের মঞ্চে কি মুখোমুখি বসবেন মোদি ও জিনপিং? উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।


সাত বছর পর ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। নজর এখন সম্ভাব্য মোদি-জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দিকে।