লাল মন্দিরের কাছে যানজট ও পুলিশের উপস্থিতি, শেষ মুহূর্তে বদলে যায় হামলার পরিকল্পনা
নয়াদিল্লি: লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র চার্জশিটে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, লালকেল্লা প্রথম থেকেই হামলাকারী উমর উন নবির মূল নিশানা ছিল না। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল চাঁদনি চকের কাছে অবস্থিত জৈন মন্দির ‘লাল মন্দির’-কে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর। কিন্তু ঘটনাস্থলের যানজট এবং পুলিশের উপস্থিতির কারণে শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলে যায় বলে দাবি NIA-র।
১০ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যায় লালকেল্লা এলাকার কাছে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। NIA-র ৭,৫০০ পাতার চার্জশিটে বিস্ফোরণের আগে উমর উন নবির গতিবিধি, হামলার পরিকল্পনা এবং বিস্ফোরক তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
যানজটেই বদলে গেল নিশানা?
NIA-র তদন্ত অনুযায়ী, বিস্ফোরণের প্রায় ১৩ মিনিট আগে উমর উন নবি লাল মন্দিরের কাছে গাড়ি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ওই এলাকায় অতিরিক্ত যানজট এবং পুলিশের উপস্থিতির কারণে সে সেখানে গাড়ি রাখতে পারেনি। এরপর গাড়ি ঘুরিয়ে লালকেল্লার দিকে চলে যায়। CCTV ফুটেজেও এই গতিবিধির প্রমাণ মিলেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিট নাগাদ লাল মন্দিরের কাছে গাড়ি পার্ক করার চেষ্টা করে নবি। সেখান থেকে ঘুরে যাওয়ার কয়েক মিনিট পর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ লালকেল্লার ৪ নম্বর গেটের কাছে বিস্ফোরণ ঘটে।
ভাড়াবাড়িতে বিস্ফোরক তৈরির অভিযোগ
চার্জশিটে NIA-র দাবি, বিস্ফোরণের আগে হরিয়ানার নুহ এলাকায় প্রায় ১১ দিন একটি ভাড়া বাড়িতে অবস্থান করেছিল নবি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, সেখানেই বিস্ফোরক তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
ওই বাড়ির প্রতিবেশীদের বয়ানও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে দাবি NIA-র। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হত এবং সেখানে প্লাস্টিকের ব্যাগে তরল পদার্থ রাখা থাকত।
NIA-র তদন্তে আরও একটি পেনড্রাইভের সন্ধান মেলে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বিস্ফোরক তৈরির বিষয়ে একটি PDF ফাইল ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
৭,৫০০ পাতার চার্জশিটে আরও তথ্য
১৪ মে ২০২৬ দিল্লির বিশেষ NIA আদালতে ৭,৫০০ পাতার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। ওই চার্জশিটে একাধিক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। NIA-র দাবি, উমর উন নবি এই চক্রের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং কার্যকরী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ছিল।
২৯ আগস্ট আদালত ওই চার্জশিটের উপর আমল নেয়। পরবর্তী তদন্ত ও আদালতের শুনানিতে চার্জশিটে থাকা তথ্যগুলি নিয়ে আরও বিস্তারিত সামনে আসে।
তদন্তকারীদের দাবি, লালকেল্লা ছিল হামলার বিকল্প লক্ষ্য—আর শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতির চাপে সেই ‘প্ল্যান বি’-ই বাস্তবায়িত হয়। পুরো ঘটনাটি নিয়ে NIA-র তদন্ত এখনও আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ।

