পুজোর ডায়েটে চাই ভাজাভুজিও! নিশ্চিন্তে বেছে নিন এই স্ন্যাকস
পুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, ঘোরাঘুরি আর খাওয়াদাওয়া। প্যান্ডেল হপিং থেকে শুরু করে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা—সবকিছুর মাঝেই নানা ধরনের মুখরোচক খাবারের হাতছানি থাকে। আর বাঙালির পুজোর খাবারের তালিকায় ভাজাভুজি থাকবে না, তা কি হয়! তবে যারা ডায়েট মেনে চলছেন, তাঁদের কাছে পুজোর সময়টা কিছুটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
কিন্তু ডায়েট মানেই যে পছন্দের সব খাবার একেবারে বাদ দিতে হবে, এমনটা নয়। পরিমাণের দিকে নজর রেখে এবং তুলনামূলকভাবে হালকা কিছু স্ন্যাকস বেছে নিলে পুজোর আনন্দের সঙ্গে খাওয়াদাওয়াও সামলানো সম্ভব।
চপ-কাটলেটের বদলে কী খাবেন?
পুজোর সময় তেলেভাজা খাবারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় চপ, সিঙ্গারা, সমুচা কিংবা কাটলেট। এগুলি একেবারে নিষিদ্ধ না করে মাঝে মধ্যে অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। তবে একসঙ্গে একাধিক ভাজা খাবার না খাওয়াই ভালো।
এর বদলে বেছে নিতে পারেন রোস্টেড মাখানা, ভাজা ছোলা বা মুড়ি। এগুলিতে তুলনামূলকভাবে কম তেল থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করতে পারে। মুড়ির সঙ্গে শসা, টমেটো, পেঁয়াজ ও সামান্য লেবু মিশিয়ে নিলে তৈরি হয়ে যেতে পারে সহজ একটি ঝালমুড়ি।
মাখানা হতে পারে ভালো বিকল্প
পুজোর আড্ডায় মুখ চালানোর জন্য মাখানা বেশ ভালো একটি বিকল্প। অল্প তেলে বা শুকনোভাবে ভেজে সামান্য মশলা দিয়ে খেতে পারেন। এতে অতিরিক্ত তেলেভাজার বদলে কিছুটা হালকা স্ন্যাকস পাওয়া যায়।
তবে মাখানা খেলেও পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও বেশি পরিমাণে খেলে মোট ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে।
বাদাম ও ভাজা ছোলা
বিকেলের দিকে খিদে পেলে প্যাকেটজাত চিপস বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারের বদলে অল্প পরিমাণ বাদাম, কাঠবাদাম বা ভাজা ছোলা খেতে পারেন। এগুলিতে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে, যা পেট কিছুটা সময় ভরা রাখতে সাহায্য করে।
তবে নুন দেওয়া বা মশলাদার বাদাম বেশি না খাওয়াই ভালো। বিশেষ করে বাইরে থেকে কেনা স্ন্যাকসের ক্ষেত্রে লবণ ও তেলের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
ফলেও হতে পারে পুজোর স্ন্যাকস
পুজোর ব্যস্ততার মধ্যে ফল খাওয়ার কথা অনেকেই ভুলে যান। অথচ আপেল, পেয়ারা, কমলালেবু, ডালিম কিংবা অন্য কোনও মৌসুমি ফল সহজেই স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া যায়। এতে শরীর প্রয়োজনীয় ফাইবার ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পায়।
পুজোর সময় বাইরে থাকলে সঙ্গে একটি ফল বা ছোট বক্সে কাটা ফল রাখলেও হঠাৎ জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল পরিমাণ
ডায়েটে থেকেও পুজোয় ভাজাভুজি খেতে চাইলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ। সারাদিন না খেয়ে রাতে অনেকটা ভাজাভুজি খাওয়া বরং শরীরের জন্য বেশি সমস্যার হতে পারে। তার বদলে নিয়মিত খাবার খান এবং পছন্দের খাবার অল্প পরিমাণে উপভোগ করুন।
পর্যাপ্ত জল পান করাও জরুরি। পাশাপাশি প্যান্ডেল ঘোরার সময় হাঁটাচলা হচ্ছে—এটিকেও দৈনিক শারীরিক সক্রিয়তার অংশ হিসেবে ধরা যায়।
তাই পুজোয় ডায়েট মানেই আনন্দে কাটছাঁট নয়। একটু পরিকল্পনা, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং তুলনামূলকভাবে ভালো স্ন্যাকস বেছে নিলেই উৎসবের স্বাদও উপভোগ করা যায়, আবার ডায়েটও অনেকটা সামলে রাখা সম্ভব।

