কলকাতা, ১৭ সেপ্টেম্বর: জামিনে মুক্তির পরও শর্ত মানা হচ্ছে না—প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হল সিবিআই। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিনের অন্যতম শর্ত ছিল নিয়মিত তদন্তকারী সংস্থার দফতরে হাজিরা দেওয়া। সেই হাজিরা ঠিকমতো হচ্ছে না বলেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার কলকাতার বিশেষ সিবিআই আদালতে বিষয়টি জানানো হয়। সিবিআইয়ের দাবি, জামিন পাওয়ার পর থেকেই পার্থ নিয়মিত হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছেন। সেই কারণে তাঁর জামিনের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না, তা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
হাজিরা নিয়ে আপত্তি সিবিআইয়ের
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে জামিনে জেল থেকে বেরোন তিনি। তার আগে জামিন দেওয়ার সময় আদালতের তরফে একাধিক শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
সেই শর্তগুলির মধ্যে ছিল সপ্তাহে অন্তত এক দিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা দেওয়া। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলার শুনানির দিনেও হাজির থাকার কথা ছিল তাঁর। সিবিআইয়ের অভিযোগ, এই নিয়মিত হাজিরার শর্ত পার্থ মেনে চলছেন না।
‘মক্কেল অসুস্থ’, পাল্টা দাবি আইনজীবীর
সিবিআইয়ের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই সবসময় সশরীরে হাজিরা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে বলেও আদালতে জানানো হয়েছে।
আইনজীবীর আরও দাবি, পরিস্থিতির কথা জানিয়ে তদন্তকারী সংস্থার কাছে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজিরার অনুমতি চেয়ে ই-মেল করা হয়েছিল। অর্থাৎ হাজিরা এড়ানোর কোনও ইচ্ছা তাঁর মক্কেলের ছিল না বলেই আদালতে সওয়াল করা হয়েছে।
একাধিক শর্তে জামিন
সিবিআইয়ের মামলায় জামিনের সময় পার্থের উপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। পাসপোর্ট জমা রাখা, আদালতের অনুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে না যাওয়া, সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করা এবং কোনও সরকারি পদে যোগ না দেওয়ার মতো শর্ত ছিল।
এর পাশাপাশি তদন্তকারী অফিসারের কাছে নিয়মিত হাজিরার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কোনও শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে মনে হলে নিম্ন আদালত তাঁর জামিন বাতিল করতে পারে—হাই কোর্টের নির্দেশে এমন কথাও উল্লেখ ছিল।
পরবর্তী শুনানি ২৯ সেপ্টেম্বর
এ দিনের শুনানিতে সিবিআই এবং পার্থের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর রাখা হয়েছে। সেই দিন হাজিরা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আদালতে আরও শুনানি হবে।
এই মুহূর্তে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন বাতিল হয়েছে এমন কোনও নির্দেশ জারি হয়নি। সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে শর্তভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে এবং আদালতে সেই বিষয়ে আবেদন করেছে।

