ইরান ইস্যুতে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, গোপনে আমিরশাহী সফরে নেতানিয়াহু
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত ও উত্তেজনার আবহের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফর করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আবুধাবিতে গিয়ে আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। তবে এই সফর এবং বৈঠক আগে থেকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নেতানিয়াহুর আচমকা আবুধাবি সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রবিবার ব্যক্তিগত বিমানে আবুধাবিতে পৌঁছন নেতানিয়াহু। সফরের বেশির ভাগ তথ্যই গোপন রাখা হয়েছিল। আমিরশাহিতে পৌঁছনোর পর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে দুই দেশের পক্ষ থেকেই এখনও বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং বাণিজ্যের উপর পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর আমিরশাহী সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি প্রকাশ্যে না আসায় এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
ইজরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডের পর। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইজরায়েল ও আরব দেশগুলির সম্পর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু ও শেখ মহম্মদ বিন জায়েদের বৈঠক নতুন করে নজর কেড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ইস্যুতে বিভিন্ন দেশের অবস্থান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ফলে নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফরে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে জল্পনা রয়েছে। তবে এই বিষয়গুলির কোনওটিই এখনও দুই দেশের পক্ষ থেকে বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি।
নেতানিয়াহুর এই গোপন সফর নিয়ে ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সফরের সময়, ব্যক্তিগত বিমানে যাতায়াত এবং আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক—সব মিলিয়ে ঘটনাটি কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে বৈঠকের পরও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে দুই পক্ষের নীরবতা বজায় রয়েছে। ফলে নেতানিয়াহুর আমিরশাহী সফরের আসল উদ্দেশ্য এবং বৈঠক থেকে কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হতে আরও তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে এই বৈঠক আগামী দিনে ইজরায়েল ও আমিরশাহির কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও নতুন বার্তা দেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

