‘জোড়াফুল মানেই মমতা, মমতা-অভিষেকের সময় থেকেই ভাঙন শুরু’

‘জোড়াফুল মানেই মমতা, মমতা-অভিষেকের সময় থেকেই ভাঙন শুরু’

নন্দীগ্রামে ঋতব্রত তৃণমূলের প্রার্থী মহঃ এতেসামুল হকের মনোনয়ন, সঙ্গে মদন মিত্র; প্রতীক নিয়ে আশাবাদী ঋতব্রত শিবির

হলদিয়া: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যেই হলদিয়ায় মনোনয়ন জমা দিলেন ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মহঃ এতেসামুল হক। হলদিয়া মহকুমাশাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক মদন মিত্র, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী-সহ দলের অন্যান্য নেতা।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে বিবাদ চলার আবহেই এই মনোনয়নকে ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে দুই শিবিরেরই।

‘জোড়াফুল প্রতীক মমতার’

মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর দলের প্রতীক এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন মদন মিত্র। তাঁর বক্তব্য, জোড়াফুল প্রতীককে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত বলেই তাঁরা মনে করেন।

মদনের দাবি, “জোড়াফুল প্রতীক মমতার। সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।” এরপরই দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য, মমতা ও অভিষেক যখন থেকে জোড়াফুলের দাবিদার হিসেবে সামনে এসেছেন, তখন থেকেই দলের মধ্যে ভাঙন শুরু হয়েছে। মদনের দাবি, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি।

১০ বিধায়ককে নোটিস নিয়েও প্রশ্ন

দলের ১০ বিধায়ককে নোটিস পাঠানোর প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন মদন মিত্র। তাঁর বক্তব্য, ৬০ জন বিধায়ক থাকার পরেও কেন নির্দিষ্ট ১০ জনকে নোটিস দেওয়া হল, তা তাঁর বোধগম্য নয়।

এই প্রসঙ্গেই নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় মদন বলেন, বিষয়টি তাঁর কাছে অনেকটা ‘হারাধনের দশটি ছেলে’ কিংবা ফুটবল দলে ১১ জন খেলোয়াড় থাকার হিসাবের মতো মনে হচ্ছে।

প্রতীক নিয়ে কী বললেন মদন?

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কোন শিবির তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করবে, সেই সিদ্ধান্ত এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে। প্রতীক নিয়ে তাঁরা আশাবাদী বলেই জানিয়েছেন মদন মিত্র।

তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাঁরা তাকিয়ে রয়েছেন। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁদের পাশেই রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল শিবিরের তরফে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে তাঁদের প্রার্থী না দেওয়ার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের দুই শিবিরের অবস্থান এবং জোড়াফুল প্রতীক—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নন্দীগ্রামের ভোটের লড়াইয়ে এবার তাই প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের প্রতীক-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে ঋতব্রত তৃণমূলের প্রার্থী মহঃ এতেসামুল হক হলদিয়ায় মনোনয়ন জমা দিলেন। সঙ্গে ছিলেন মদন মিত্র। জোড়াফুল প্রতীক ও দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি।