পূর্ব মেদিনীপুর, ১৭ সেপ্টেম্বর: দীর্ঘদিন জঙ্গলে আত্মগোপনে থাকার পর শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়লেন সিপিআই (মাওবাদী)-র শীর্ষ নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ। বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স তাঁকে পাকড়াও করেছে বলে খবর। প্রায় চার দশক ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এই নেতার বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় মিলিয়ে মোট ২.২০ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা এলাকার বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ছাত্রজীবন থেকেই অতি-বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে পিপলস্ ওয়ার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাওবাদী সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় সংগঠনের কাজ পরিচালনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন জঙ্গলেই আত্মগোপন করে ছিলেন তিনি।
আত্মসমর্পণের পথে হাঁটেননি আকাশ
সাম্প্রতিক সময়ে মাওবাদী সংগঠনের উপর নিরাপত্তাবাহিনীর চাপ বাড়তে থাকায় আকাশের সঙ্গীরাও একে একে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিন্তু আকাশ নিজে আত্মসমর্পণে রাজি ছিলেন না বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। বরং নতুন করে সংগঠনকে সক্রিয় করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
তবে পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে। সূত্রের খবর, তাঁর সঙ্গে থাকা দলের টাকা-পয়সাও নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে চলে যায়। কার্যত অর্থকষ্টে পড়ে পটাশপুরে আত্মীয়ের বাড়িতে কিছু টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আসেন আকাশ। সেই সময়ই তাঁর অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের কাছে খবর পৌঁছয়।
ভোররাতে অভিযান
জানা গিয়েছে, আকাশ পটাশপুরে পৌঁছনোর পর থেকেই তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। বৃহস্পতিবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে সাংগঠনিক নথি, বইপত্র-সহ একাধিক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে খবর।
অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ মাওবাদী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিষানজির মৃত্যুর পর বাংলায় সংগঠনের দায়িত্বও তাঁর হাতে এসেছিল বলে জানা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় ছিলেন তিনি।
মোট পুরস্কার ২.২০ কোটি
আকাশের মাথার দাম নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পৃথক অঙ্ক উল্লেখ করা হলেও সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে ঝাড়খণ্ড সরকারের ঘোষিত ১ কোটি টাকা এবং ওড়িশা সরকারের ঘোষিত ১.২০ কোটি টাকা—মোট ২.২০ কোটি টাকা পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে পুলিশের নজর এড়িয়ে থাকার পর পটাশপুরে তাঁর গ্রেফতারি মাওবাদী বিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। এখন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সংগঠনের বাকি সদস্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

