রাষ্ট্রপতির মতো দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সময় কঠোর প্রোটোকল, শৃঙ্খলা এবং নিয়ম মেনে চলতে হয়। কিন্তু সেই আনুষ্ঠানিকতার আড়ালেও তৈরি হতে পারে এক গভীর মানবিক সম্পর্ক। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে নিজের তিন বছরের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে এমনই এক ব্যক্তিগত দিক তুলে ধরেছেন মেজর ঋষভ সিং সাম্বিয়াল।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর Aide-de-Camp (ADC) হিসেবে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেছেন মেজর ঋষভ। এই পদটি যেমন অত্যন্ত সম্মানজনক, তেমনই এর সঙ্গে রয়েছে বিপুল দায়িত্ব। রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি, সফর এবং আনুষ্ঠানিকতার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয় ADC-কে। সবসময় সতর্ক থাকা এবং রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত থাকা এই দায়িত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তবে দীর্ঘ তিন বছরের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতায় শুধুমাত্র প্রোটোকল আর দায়িত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি মেজর ঋষভের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মুর্মুর সম্পর্ক। তাঁর কথায়, সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক হয়ে উঠেছিল অনেক বেশি আন্তরিক এবং উষ্ণ। পারস্পরিক সম্মান ও যত্নের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছিল একটি বিশেষ বন্ধন।
এই সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে মেজর ঋষভ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মুর্মুর উপস্থিতি অনেক সময় তাঁকে নিজের মায়ের কথা মনে করিয়ে দিত। সেনা জীবনের কারণে দীর্ঘ সময় পরিবার এবং বিশেষ করে মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয় একজন অফিসারকে। সেই জায়গা থেকেই রাষ্ট্রপতি মুর্মুর ব্যবহার ও ব্যক্তিত্ব তাঁর কাছে আলাদা আবেগ বহন করত বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
একজন ADC-র দায়িত্ব যে কতটা কঠিন, তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মেজর ঋষভ। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য অফিসারদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয়। ব্যক্তিগত সময় ও জীবনের অনেক কিছুই দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হয়। এমনকী, রাষ্ট্রপতির ADC হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় অফিসারদের বিয়ে করার অনুমতি থাকে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ, এই দায়িত্ব শুধুমাত্র একটি সামরিক পদ বা মর্যাদার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘ সময়ের ব্যক্তিগত ত্যাগ এবং দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারীর প্রতি পূর্ণ দায়বদ্ধতা। দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলিও অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে দিতে হয়।
মেজর ঋষভের অভিজ্ঞতা তাই রাষ্ট্রপতি ভবনের চেনা আনুষ্ঠানিক ছবির বাইরে অন্য একটি দিক সামনে আনে। সাধারণ মানুষের চোখে রাষ্ট্রপতি ও তাঁর ADC-র সম্পর্ক মূলত প্রোটোকল এবং দায়িত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সেই সম্পর্কের মধ্যে যে মানবিকতা, স্নেহ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা তৈরি হতে পারে, তাঁর বক্তব্যে তারই প্রতিফলন দেখা যায়।
তিন বছরের সেই অধ্যায় মেজর ঋষভের কাছে শুধু একটি পেশাগত দায়িত্ব ছিল না। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে তৈরি হওয়া আন্তরিক সম্পর্ক তাঁর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে আরও বিশেষ করে তুলেছিল। কঠোর সামরিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলের আড়ালে গড়ে ওঠা এই মানবিক বন্ধনের কথাই এবার প্রকাশ্যে আনলেন তিনি।

