ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন ,নতুন ভোটারের নাম তোলার ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে ‘ভ্রান্তিকর’ বলে ফ্যাক্ট চেক প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
নতুন ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-কে ঘিরে বিতর্ক আরও জোরালো হল। সোমবার, ৫ অক্টোবর, কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বেআইনি ও একতরফাভাবে ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন এনেছেন। এর পরেই কমিশনের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ফ্যাক্ট চেক’ প্রকাশ করে রাহুলের বক্তব্যকে ‘misleading’ বা ভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, বিহারে ভোটার তালিকার Special Intensive Revision বা SIR-এর জন্য ২০২৫ সালের ২৪ জুন যে নির্দেশ জারি করা হয়েছিল, তা কমিশনের সর্বসম্মত অনুমোদনেই হয়েছিল। কমিশনের আরও দাবি, ওই নির্দেশকে ২০২৬ সালের ২৭ মে দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে।
কমিশন তাদের ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রেস নোটেরও উল্লেখ করেছে। সেখানে বলা হয়েছিল, SIR-এর জন্য ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যে অতিরিক্ত ঘোষণা সংযুক্ত করা হয়েছিল, সেটিকে সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে বলে কমিশনের ব্যাখ্যা। কমিশনের দাবি, রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে এই বিষয়টির সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
তবে এই বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট করেন যে, SIR চলাকালীন ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এর কোনও সংশোধিত সংস্করণকে আদালত সরাসরি অনুমোদন করেনি। ফর্ম ৬-এ কী ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং তার আইনি ভিত্তি কী—সেই বিষয়টি আদালতের পরবর্তী পর্যালোচনার অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, মূল ফর্ম ৬-এর কোনও অংশ—এমনকি কমা বা পূর্ণচ্ছেদও—বদলানো হয়নি। বরং বিহারের SIR প্রক্রিয়ার সময় ফর্ম ৬-এর সঙ্গে একটি অতিরিক্ত ঘোষণা সংযুক্ত করা হয়েছিল।
ফলে ফর্ম ৬-কে ঘিরে রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পাশাপাশি এখন নজর রয়েছে এই অতিরিক্ত ঘোষণার আইনি বৈধতা এবং তা কোন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের দিকে। নির্বাচন কমিশন যেখানে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে ভ্রান্তিকর বলছে, সেখানে বিরোধী পক্ষ বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলছে। বিতর্কের চূড়ান্ত আইনি ব্যাখ্যার দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

