চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাসের দাপট, কবে মিলবে প্রতিষেধক? জানাল ICMR
ডেঙ্গু ভ্যাকসিন। বর্ষা কাটতে না কাটতেই রাজ্যজুড়ে ফের বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট। কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কবে মিলবে ডেঙ্গুর প্রতিষেধক? এবার সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিল ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ বা ICMR।
ICMR-এর তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের নিজস্ব ডেঙ্গু ভ্যাকসিন তৈরির কাজ এগোচ্ছে। ‘DengiAll’ নামে এই টেট্রাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিনটি তৈরি করছে ICMR এবং Panacea Biotec। বর্তমানে ভ্যাকসিনটির তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। সব পরীক্ষা সফল হলে এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন মিললে ২০২৭ সালের শেষের দিকে দেশীয় ডেঙ্গু ভ্যাকসিন বাজারে আসতে পারে।ডেঙ্গু ভ্যাকসিন।
চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই
ডেঙ্গু ভাইরাসের মূলত চারটি সেরোটাইপ রয়েছে—DENV-1, DENV-2, DENV-3 এবং DENV-4। ICMR-এর নজরদারিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই চার ধরনের ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গও সেই রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে যেখানে চারটি সেরোটাইপই শনাক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একই ব্যক্তির একাধিকবার ডেঙ্গু হলে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারে এমন ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চলছে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল
DengiAll ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয় ২০২৪ সালে। দেশের একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিভিন্ন কেন্দ্রে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকের উপর এই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। ভ্যাকসিনটি কতটা নিরাপদ এবং ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর, সেই বিষয়টিই মূলত পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
ট্রায়ালের ফলাফল সন্তোষজনক হলে পরবর্তী ধাপে ভ্যাকসিনের অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফলে সাধারণ মানুষের হাতে দেশীয় ডেঙ্গু ভ্যাকসিন পৌঁছতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।ডেঙ্গু ভ্যাকসিন।
বিদেশি ভ্যাকসিন নিয়েও বড় খবর
এদিকে ভারতে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। জাপানি সংস্থা Takeda-র তৈরি Qdenga ভ্যাকসিন ভারতে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। অর্থাৎ, দেশীয় DengiAll এখনও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে থাকলেও বিদেশি ডেঙ্গু ভ্যাকসিন ইতিমধ্যেই অনুমোদনের তালিকায় এসেছে।
তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ভ্যাকসিনের উপর নির্ভর করলেই হবে না। জমা জল পরিষ্কার রাখা, মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখাও অত্যন্ত জরুরি। জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।ডেঙ্গু ভ্যাকসিন।
সব মিলিয়ে, ডেঙ্গুর দাপটের মধ্যেই দেশীয় ভ্যাকসিন নিয়ে আশার আলো দেখাচ্ছে ICMR। তবে DengiAll সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে এখনও অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত—ট্রায়াল ও অনুমোদনের ফলের উপরই নির্ভর করছে সেই সময়সীমা।
আরও পড়ুন https://channel10.co.in/jamdani-weaving-narendra-modi-portrait-phulia/

