নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিলোত্তমার শারদোৎসবে যুক্ত হলো এক নতুন ঠিকানা। শহরের দুর্গাপূজার মানচিত্রে এবার প্রথম আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বেলেঘাটার ‘হোপ লাইফ অ্যাথলেটিক ক্লাব’। বর্তমান সামাজিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের আবহে শহরের নানা প্রান্তে নতুন নতুন পূজার উন্মেষ ঘটছে। সেই ধারায় সামিল হয়ে এবছর ক্লাবের উদ্যোগে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে প্রথম বর্ষের দুর্গাপূজার সূচনা করল এই ক্লাব।
চটকদার থিম নয়, ভরসা ঐতিহ্যে
আজকের দিনে দুর্গাপূজা মানেই যেখানে চোখধাঁধানো আধুনিক থিম আর কৃত্রিম চমকের প্রতিযোগিতা, সেখানে সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোপ লাইফ অ্যাথলেটিক ক্লাব। উদ্যোক্তারা কোনো সাময়িক চটকদার থিমকে প্রাধান্য দেননি। বরং বাংলার চিরাচরিত ঐতিহ্য ও দেবীর সনাতনী রূপকে গুরুত্ব দিয়ে নিখাদ সাবেকি ধাঁচেই মণ্ডপ ও প্রতিমা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
খুঁটিপূজোয় সাজো সাজো রব
জন্মাষ্টমীর পুণ্য তিথিতে শুভ খুঁটিপূজোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে পূজার কাউন্টডাউন শুরু করল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। প্রথম বছরের এই পূজাকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই ক্লাব সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথাগত ঢাকের আওয়াজ আর পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে এলাকা জুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা কর্মকর্তাদের
প্রথম বর্ষের আয়োজনকে নিখুঁত ও স্মরণীয় করে তুলতে ইতিমধ্যেই পুরোদমে ময়দানে নেমে পড়েছেন ক্লাবের কর্মকর্তারা। ক্লাবের সম্পাদক তপন দাসের নেতৃত্বে এই পূজার আয়োজনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অভিজিৎ বিদ, বাপ্পা বৈদ্য, অভিজিৎ পাল, রোমিও ভৌমিক, কমল দাস, শম্ভু দাস, তপা বৈদ্য, বিশ্বনাথ দাস, শম্ভু দে, জয় চক্রবর্তী, অজয় দে, কার্তিক দাস, প্রবীর মুখার্জী, সোমনাথ দাস, গোপাল দে, দেবাশীষ কর্মকার, চান্দু দাশগুপ্ত এবং কাশি গুপ্ত।
উদ্যোক্তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, কোনো কৃত্রিম চাকচিক্য নয়, বরং আন্তরিকতা আর বিশুদ্ধ সাবেকিয়ানার মেলবন্ধনে তাঁদের এই প্রথম বর্ষের আয়োজন শুধু বেলেঘাটা নয়, শহরবাসীর মন জয় করে নেবে।

