নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:
সাংসদ পদ নিয়ে জটিলতার মধ্যেই ফের সময় চাইলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র ২০ জন সাংসদ। দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের সাংসদ পদ কেন খারিজ করা হবে না, সেই প্রশ্নের জবাব দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দফতর থেকে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ফের অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছেন তাঁরা।
সূত্রের খবর, জবাব তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু নথি এখনও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি—এই কারণ দেখিয়েই অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের তরফে স্পিকারের কাছে আরও ১৫ দিন সময় চাওয়া হয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কয়েকজন সাংসদও অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে আজ কলকাতায় সংশ্লিষ্ট সাংসদদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে স্পিকারের নোটিসের জবাব, আরও সময় চাওয়ার বিষয় এবং পরবর্তী আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কলকাতায় ২০ জন সাংসদের বৈঠক ডাকা হয়েছে এবং সেখানেই পরবর্তী কৌশল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে সাংসদ পদ খারিজের আবেদন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি লোকসভার স্পিকারের বিবেচনায় রয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট সাংসদদের বক্তব্য জানতে চেয়েছে।
প্রথমে অল্প সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হলেও পরে সাংসদদের আবেদনের ভিত্তিতে সময় বাড়ানো হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে ফের সময়সীমা নির্ধারণ করে ৮ অক্টোবরের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। এবার সেই সময়সীমার শেষ দিনে আবারও অতিরিক্ত সময় চাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট সাংসদদের বক্তব্য, তাঁরা যে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন, সেটি সাংসদ পদ খারিজের কারণ নয়। সেই যুক্তিই তাঁদের জবাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি এবং সাংসদদের আবেদন ও জবাবের পরই পরবর্তী প্রক্রিয়া স্পষ্ট হবে। Indian Express – Bangla
ফলে আজকের কলকাতার বৈঠক এবং স্পিকারের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

