নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:
কথায় আছে, ‘গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না।’ বাংলার ক্রিকেটে সত্রাজিৎ লাহিড়ীর ক্ষেত্রে সেই প্রবাদই যেন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ময়দানে দীর্ঘদিন ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থেকেও বাংলার সিনিয়র দলের দায়িত্ব পাননি তিনি। অথচ ২০২৬-২৭ মরসুমে ত্রিপুরা রঞ্জি দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল বাংলার এই ঘরের ছেলের হাতে।
প্রাক্তন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার সত্রাজিৎ লাহিড়ী ত্রিপুরার হয়ে ১২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৯৬-৯৭ মরসুমে দেওধর ট্রফি জয়ী পূর্বাঞ্চল দলেরও সদস্য ছিলেন তিনি। ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে থাকার পর কোচিংকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন সত্রাজিৎ। বর্তমানে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে বিসিসিআই লেভেল-সি এবং ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ECB) লেভেল-৩ কোচিং যোগ্যতা।
কোচ হিসেবে জাতীয় স্তরেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সত্রাজিতের। বিসিসিআইয়ের কোচেস এডুকেশন প্রোগ্রামে ফ্যাকাল্টি হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় শিবিরের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দলের দায়িত্বও সামলেছেন।
বাংলার ক্রিকেটের ময়দানেও তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ। সিএবির জুনিয়র ক্রিকেটের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ক্রিকেট প্রশিক্ষণ ও প্রতিভা বিকাশের কাজেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। তবু বাংলার সিনিয়র দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব তাঁর হাতে আসেনি। এবার সেই সত্রাজিতের উপরেই আস্থা রাখল ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন।
সত্রাজিতের এই দায়িত্ব পাওয়াকে গর্বের মুহূর্ত হিসেবে দেখছে হার্ভার্ড হাউস স্পোর্টসও। সংস্থার ডিরেক্টর অব ক্রিকেট অপারেশনস ডঃ মইন বিন মাকসুদের বক্তব্য, তাঁদের ক্রিকেট কর্মসূচিতে সত্রাজিতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ত্রিপুরার হয়ে তাঁর সাফল্য কামনা করেছেন তিনি।
২০২৬-২৭ রঞ্জি মরসুমে নতুন কোচিং ব্যবস্থার পাশাপাশি ত্রিপুরা দলে বেশ কিছু অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও যোগ দিয়েছেন। মন্দীপ সিংহ ফিরেছেন দলে। রয়েছেন হনুমা বিহারী ও স্বপ্নিল সিংহের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও। ফলে নতুন কোচ সত্রাজিতের সামনে ত্রিপুরাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার বড় চ্যালেঞ্জ।
ত্রিপুরা যখন বাংলার এই ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের উপর আস্থা রাখছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—বাংলার ক্রিকেটে সত্রাজিতের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন কি হয়েছে? ত্রিপুরার এই সিদ্ধান্ত সেই প্রশ্নটাকেই আরও জোরালো করে তুলেছে।

