কলকাতা: বিশ্বরূপ দে জন্মদিন, জন্মদিন মানেই অনেকের কাছে উৎসব, আলো, কেক আর শুভেচ্ছার ভিড়। কিন্তু নিজের বিশেষ দিনটাকে অন্যভাবে কাটালেন বিশ্বরূপ দে। কোনও বড় আয়োজন বা প্রচারের আলো নয়, ১৬ সেপ্টেম্বরের জন্মদিনটি তিনি কাটালেন ‘দ্য রেফিউজ’-এর আবাসিক ছোটদের সঙ্গে।
মধ্য কলকাতার বউবাজারের শতাব্দীপ্রাচীন প্রতিষ্ঠান ‘দ্য রেফিউজ’-এর সঙ্গে বিশ্বরূপ দে-র সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ও দেখভালের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে রেফিউজের আবাসিকদের কাছে তিনি শুধু একজন প্রশাসক নন, অনেকটা পরিবারের আপনজনের মতোই।বিশ্বরূপ দে জন্মদিন,
সিএবি-র প্রাক্তন যুগ্ম সচিব ও কোষাধ্যক্ষ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলর—বিশ্বরূপ দে-র পরিচয়ের পরিধি দীর্ঘ। তবে তাঁর কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে সমাজসেবা। আর সেই কাজের অন্যতম কেন্দ্র ‘দ্য রেফিউজ’।বিশ্বরূপ দে জন্মদিন,
জন্মদিনেও তাই অন্য কোনও অনুষ্ঠানের বদলে আবাসিকদের সঙ্গেই সময় কাটানোকে গুরুত্ব দিলেন তিনি। শিশুদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের খোঁজখবর নেওয়া, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন নিয়ে আলোচনা—দিনের একটা বড় সময় কেটে যায় তাদের সঙ্গেই।
রেফিউজে শুধু শিশুদেরই নয়, ধর্ম, জাতি ও বর্ণের ভেদাভেদ ছাড়াই অসহায় ও অনাথ শিশু এবং প্রবীণদেরও আশ্রয় ও যত্ন দেওয়া হয়। তাঁদের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং সামগ্রিক কল্যাণের বিষয়েও নিয়মিত নজর রাখার চেষ্টা করেন বিশ্বরূপ দে।
তিনশোরও বেশি আবাসিকের প্রয়োজন, ভবিষ্যৎ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত তিনি। তাই নিজের জন্মদিনটিও সেই মানুষগুলোর মাঝেই কাটানোর সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে আলাদা কোনও ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের সম্পর্কেরই স্বাভাবিক প্রকাশ।বিশ্বরূপ দে জন্মদিন,
জন্মদিনের দিন কেক বা জাঁকজমকের চেয়ে বড় হয়ে উঠল ছোটদের সঙ্গে কাটানো সময়। আবাসিকদের হাসিমুখ, তাদের সঙ্গে কথোপকথন আর কিছুটা সময় একসঙ্গে থাকাই যেন হয়ে উঠল বিশ্বরূপ দে-র জন্মদিনের মূল উদযাপন।
প্রচারের আলো থেকে দূরে, নিজের বিশেষ দিনটাকে অন্যের জন্য উৎসর্গ করার এই ছবিই তুলে ধরল বিশ্বরূপ দে-র জন্মদিনের অন্যরকম দিক। রেফিউজের ছোটদের মুখের হাসিতেই যেন নিজের জন্মদিনের আনন্দ খুঁজে নিলেন তিনি।

