ব্রিক্‌সের মঞ্চে ঐকমত্য, সেমিকনে চিপ—বিশ্বের আস্থা বাড়ছে ভারতের উপর, বললেন মোদী

ব্রিক্‌সের মঞ্চে ঐকমত্য, সেমিকনে চিপ—বিশ্বের আস্থা বাড়ছে ভারতের উপর, বললেন মোদী

নয়াদিল্লি, ১৭ সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের গুরুত্ব যে ক্রমশ বাড়ছে, তারই উদাহরণ হিসেবে ব্রিক্‌স সম্মেলনের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির যশোভূমিতে ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ব্রিক্‌সের ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়া ভারতের প্রতি বিশ্বের আস্থার বড় প্রমাণ।

মোদীর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও ব্রিক্‌স সম্মেলনে ঐকমত্য তৈরি করে ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, এই ঘটনাই দেখিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতকে ঘিরে আস্থার জায়গাটি আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

ব্রিক্‌সের পর এবার নজর সেমিকন্ডাক্টরে

ব্রিক্‌সের সাফল্যের প্রসঙ্গের পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় সেমিকন্ডাক্টর শিল্প।

মোদীর দাবি, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ভারত এই ক্ষেত্রে এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে পরিকল্পনা ও নীতির পর্ব পেরিয়ে এখন উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে দেশ। তাঁর কথায়, ভারতের সেমিকন্ডাক্টর যাত্রা এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

দেশে নতুন সেমিকন্ডাক্টর কারখানা গড়ে ওঠার পাশাপাশি চিপ উৎপাদনের পরিকাঠামোও দ্রুত তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। এই শিল্পকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগ, গবেষণা, দক্ষ কর্মী তৈরি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে।

বিশ্বের চিপ-চাহিদায় ভারতকে বড় ভূমিকা দেওয়ার বার্তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে মোবাইল, গাড়ি, প্রতিরক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তি—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বিশ্বজুড়ে চিপ সরবরাহের বিকল্প কেন্দ্র তৈরির প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতকে নির্ভরযোগ্য সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য সামনে রাখছেন মোদী। বিশ্বকে ভারতের প্রযুক্তি ও উৎপাদন পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

এক লক্ষ ইঞ্জিনিয়ার তৈরির লক্ষ্য

শুধু কারখানা তৈরি নয়, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য দক্ষ কর্মী তৈরির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই ক্ষেত্রে এক লক্ষ ইঞ্জিনিয়ারকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৭০ হাজারের বেশি ইঞ্জিনিয়ার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন বলে তিনি জানান।

এবার ‘সেমিকন ২.০’-এর মাধ্যমে চিপ ডিজাইন, উৎপাদন, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং গোটা সরবরাহ-শৃঙ্খলকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পর্যায়ে অন্তত ২০০টি চিপ-ডিজাইন সংস্থা ও স্টার্টআপকে সহায়তার লক্ষ্যও সামনে রাখা হয়েছে।

একই মঞ্চে কূটনীতি ও প্রযুক্তির বার্তা

ব্রিক্‌সের ঘোষণাপত্র থেকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প—একই বক্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দুই দিকই তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর বার্তার মূল সুর, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে এবং সেই আস্থাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভারতকে আরও শক্তিশালী জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬-এ ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংস্থা, বিনিয়োগকারী, গবেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।


ব্রিক্‌সের সর্বসম্মত ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’-কে ভারতের প্রতি বিশ্বের বাড়তে থাকা আস্থার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর মঞ্চ থেকে সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরলেন তিনি।