নয়াদিল্লি: শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক , সীমান্তপথে অস্ত্র ও মাদক পাচার থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ—শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ককে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানভিত্তিক এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বড়সড় অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
স্বাধীনতা দিবসের আগে গত ১২ আগস্ট ১৪টি রাজ্যে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। কেন্দ্র জানিয়েছে, ওই অভিযানে ২৫৩ জনকে আটক করা হয় এবং শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ৮০টির বেশি এফআইআর ও ২০০-র বেশি গ্রেফতারের তথ্য রয়েছে।
কেন্দ্রের দাবি, নেটওয়ার্কটির সঙ্গে সীমান্তপারের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। অভিযানে আইইডি, পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির চিহ্নযুক্ত গ্রেনেড, পিস্তল, গুলি এবং নজরদারির কাজে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, নেটওয়ার্কটি গ্রেনেড, আইইডি ও পেট্রোল বোমা হামলা এবং টার্গেট কিলিংয়ের মতো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত।
এর আগে দিল্লি পুলিশও শাহজাদ ভাট্টির সঙ্গে যুক্ত একটি পাকিস্তান-সমর্থিত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল। পুলিশের দাবি ছিল, ওই চক্র পাকিস্তান থেকে পাঞ্জাব হয়ে দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
শাহজাদ ভাট্টিকে ইউএপিএ-র আওতায় সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বলেও এর আগে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশও ভাট্টি ও তাঁর নেটওয়ার্ককে ইউএপিএ-র চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্রের অনুমোদন চেয়েছিল।
এদিকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-ও শাহজাদ ভাট্টির সঙ্গে যুক্ত একাধিক মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে। জুলাই ২০২৬-এ আম্বালার বলদেব নগর থানায় গাড়ি বিস্ফোরণ মামলায় ভাট্টিকে-সহ আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের কথা জানিয়েছিল এনআইএ।
ফলে শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ককে ঘিরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে। সীমান্তপারের যোগাযোগ, অস্ত্র পাচার, নিয়োগ এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগের সূত্র ধরে দেশজুড়ে তদন্ত ও ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে।
ভূস্বর্গে রাজনীতির চাকা ঘুরছে! এবার কংগ্রেসের উলটো সুরে ‘ব্রিকস সাফল্যে’ মোদি বন্দনা আবদুল্লার

