নন্দীগ্রামে মমতা দাঁড়ালে প্রার্থী দেবে না ঋতব্রত-তৃণমূল, আখরুজ্জামানের বার্তার পরই পালটা দিলীপের
কলকাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে ফের তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। গণনা ৯ অক্টোবর। তার আগেই নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হবেন কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
এই জল্পনার মধ্যেই মমতাকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। ওই শিবিরের বিধায়ক তথা মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে লড়লে তাঁরা সেখানে কোনও প্রার্থী দেবেন না। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রাম থেকে জিততে না পারার যে ‘স্বপ্ন’ মমতার রয়েছে, তা পূরণের সুযোগ করে দিতেই তাঁরা সরে দাঁড়াবেন।নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন
‘আবার কি নন্দীগ্রামে হারতে নামবেন?’
ঋতব্রত শিবিরের এই বার্তার পরই পালটা কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মমতার নন্দীগ্রাম থেকে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর প্রশ্ন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে নন্দীগ্রামে হেরেছেন, ভবানীপুরেও হেরেছেন। আবার কি উনি নন্দীগ্রামে হারতে নামবেন?”
দিলীপের আরও কটাক্ষ, “হাওয়া দিচ্ছেন ওঁকে। আর হারার বাকি নেই। এখন উনি কী করবেন, ওঁর ব্যাপার। লোকে উল্টো বুদ্ধি দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ফল টের পেয়েছেন।”নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন
‘প্রতীক কার, দল কার—সেটা ঠিক করতেই ভোট শেষ’
নন্দীগ্রামের লড়াইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে দলীয় নাম, প্রতীক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের লড়াইও এখন বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী—দু’পক্ষই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল বলে দাবি করছে।
এই প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, প্রতীক কার, দল কার, তহবিল কার—এসবের মীমাংসা করতে করতেই তৃণমূলের ভোটের লড়াই শেষ হয়ে যাবে।
দিলীপের দাবি, “তৃণমূলের পাগড়ি বাঁধতে বাঁধতে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। প্রতীক কার, পার্টি কার, ফান্ড কার—এ নিয়ে সমাধান হতে হতেই নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে। লোকসভা নির্বাচন, পঞ্চায়েত নির্বাচনও পার হয়ে যাবে। লড়ুক ওরা।”
নন্দীগ্রামে কার প্রতীকে লড়াই?
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের হাতে থাকবে?
এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে দুই পক্ষই। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে দুই শিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবে কমিশন। প্রথমে ঋতব্রত শিবির এবং পরে মমতা শিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা।
ঋতব্রত শিবির জানিয়েছে, তারা নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনেই প্রার্থী দেবে। নির্বাচন কমিশন জোড়াফুল প্রতীক না দিলে নির্দল প্রার্থী হিসেবেও লড়াই করার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।
এদিকে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করার সম্ভাবনা নিয়ে মমতাপন্থী শিবির এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। ফলে উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে প্রার্থী কে হচ্ছেন, আর শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের হাতে থাকবে তৃণমূলের প্রতীক—এই দুই প্রশ্নই এখন বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

