গরবা-ডান্ডিয়ায় মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধের দাবি ‘অসাংবিধানিক’, জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

গরবা-ডান্ডিয়ায় মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধের দাবি ‘অসাংবিধানিক’, জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

নবরাত্রির আগে মহারাষ্ট্রে বিতর্ক, রামদাস অঠাওয়ালের বার্তা—উৎসব সকলের, ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আটকানো ঠিক নয়

রায়পুর: গরবা-ডান্ডিয়ায় মুসলিমদের প্রবেশ । নবরাত্রির আগে মহারাষ্ট্রে গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই দাবিকে এ বার ‘অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিমন্ত্রী রামদাস অঠাওয়ালে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের অন্য সম্প্রদায়ের উৎসবে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

বুধবার এক দিনের সফরে ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দর চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।গরবা-ডান্ডিয়ায় মুসলিমদের প্রবেশ । 

রামদাস অঠাওয়ালে বলেন, ভারত সংবিধান অনুযায়ী চলে এবং সংবিধান দেশের সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। তাঁর কথায়, ভারতে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ, পারসি-সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। তাই কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষকে কোনও উৎসবে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার দাবি সংবিধানের মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গরবা-ডান্ডিয়ায় মুসলিমদের প্রবেশ । 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য, মুসলিমদের গরবা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া উচিত নয়—এমন কথা বলা ঠিক নয়। বরং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের একসঙ্গে মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করা উচিত।

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে অজমের শরিফের উদাহরণও দেন অঠাওয়ালে। তাঁর দাবি, সেখানে যেমন বহু হিন্দু দর্শনার্থী যান, তেমনই দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের একে অপরের উৎসবে অংশ নেওয়ার মানসিকতাও থাকা প্রয়োজন।

কী দাবি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের?

আগামী ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে নবরাত্রি। তার আগে মহারাষ্ট্রে গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠান ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবি, এই অনুষ্ঠানে মুসলিমদের প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়।গরবা-ডান্ডিয়ায় মুসলিমদের প্রবেশ । 

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গরবা ও ডান্ডিয়ায় অংশ নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কপালে তিলক থাকা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি প্রবেশের আগে পরিচয়পত্র যাচাইয়ের কথাও বলা হয়েছে।

এই দাবির বিরোধিতা করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাধিক নেতা। অন্যদিকে মহারাষ্ট্র সরকারের একাংশ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। রাজ্যের বন্দর উন্নয়নমন্ত্রী নীতেশ রানে প্রকাশ্যে এই দাবির পক্ষে কথা বলেছেন।

তবে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের স্ত্রী অমৃতা ফডণবীসের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁর মতে, উৎসব সবার জন্য এবং কোনও উৎসবে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিলে তাতে আপত্তির কারণ নেই।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস অঠাওয়ালের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করল বিতর্কে। তাঁর বক্তব্য, ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে অন্যের উৎসব থেকে দূরে রাখার চেষ্টা সংবিধানবিরোধী।


মহারাষ্ট্রে গরবা-ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস অঠাওয়ালে। তাঁর বার্তা, উৎসব সকলের।