চ্যানেল-টেন অনলাইন ডেস্কঃ সারাবছরই পর্যটকদের ভিড়ে সরগরম থাকা কোচবিহার রাজবাড়ির ব্যস্ততা অদূরভবিষ্যতে আরও বাড়তে চলেছে। শুধু পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেই নয়, এবার রাজবাড়িগুলিকে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিশাল পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য পর্যটন দপ্তর (Destination Wedding Cooch Behar Palace)। শুধু কোচবিহার বা উত্তরবঙ্গই নয়, কাঞ্চনজঙ্ঘা, চা বাগান ও পাহাড়ি সৌন্দর্যের পাশাপাশি দিঘা এবং পুরুলিয়াকে সঙ্গে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মানচিত্রের অন্যতম সেরা ডেস্টিনেশন ওয়েডিং হাব হিসেবে তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যোধপুরের উমেদ ভবন প্যালেস কিংবা ক্যাটরিনা কাইফ রাজস্থানের ফোর্ট বারওয়ারায় রাজকীয় কায়দায় তাঁদের জীবনের বিশেষ দিনটি উদযাপন করেছিলেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এখন ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয়। এতদিন গোয়া বা রাজস্থান এই ধরনের পর্যটনের জন্য দেশজুড়ে বিখ্যাত থাকলেও, এবার সেই ট্রেন্ডকে পাহাড়ি ও সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি বাংলার ঐতিহাসিক প্রাসাদেও নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে পর্যটন দপ্তর। বিয়ের আগের আকর্ষণীয় ফোটোশুট থেকে শুরু করে জমকালো বিয়ের সমস্ত রীতিনীতি—সবকিছুর জন্য একটি আকর্ষণীয় প্যাকেজ তৈরির কাজ চলছে, যা দেশি পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদেরও নজর কাড়বে।
এই অভিনব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন নামী ওয়েডিং প্ল্যানার ও হোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। কোচবিহার রাজবাড়ির পাশাপাশি জলপাইগুড়ির রাজবাড়িকেও এই প্যাকেজে কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়াও বিশ্বজুড়ে দার্জিলিংয়ের যে বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে, তাকে কেন্দ্র করে বিশ্বমানের পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। পাহাড়ি শৈলশহরের কোন কোন হোটেল ও হেরিটেজ প্রপার্টি এই ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের জন্য উপযুক্ত, তার সমীক্ষাও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গে বিয়ের আগের ফোটোশুটের জন্য কোচবিহার রাজবাড়ির চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। এবার রাজবাড়িতে সরাসরি বিয়ের আয়োজন শুরু হলে পর্যটনের রমরমা বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন। পর্যটন বিশেষজ্ঞ রাজ বসু জানিয়েছেন, দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গে এই পরিকাঠামো গড়ে উঠলে পর্যটনের উন্নতির পাশাপাশি স্থানীয় হসপিটালিটি শিল্প, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং পরিবহন ক্ষেত্রে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের হেরিটেজ হোটেল ও বাংলোগুলিতে এই ধরনের আয়োজনে দারুণ সাড়া মিলেছে। সব মিলিয়ে, ঐতিহাসিক রাজবাড়ি ও প্রকৃতির মেলবন্ধনে বাংলার পর্যটন অর্থনীতি যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে চলেছে, বলাই বাহুল্য।

