নিজস্ব সংবাদদাতা: হিমবাহ দ্রুত গলনের জেরে অরুণাচল প্রদেশের একাধিক হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের আয়তন বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF) বা হ্রদের বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা বাড়ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
‘ডিসকভার হ্যাজার্ডস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় অরুণাচল প্রদেশের ১২৭টি হ্রদকে নিয়ে ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকদের হিসাবে, ৮৯টি হ্রদ কম ঝুঁকিপূর্ণ, ৩৬টি মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২টি হ্রদ সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
মাঝারি ও উচ্চ ঝুঁকির হ্রদগুলির অধিকাংশই আপার দিবাং ভ্যালি, পশ্চিম কামেং এবং তাওয়াং এলাকায় অবস্থিত। এই অঞ্চলগুলিতে জনবসতির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামোও রয়েছে। ফলে কোনও হ্রদের জল আকস্মিক ভাবে বেরিয়ে এলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
কীভাবে তৈরি হয় GLOF?
পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ গলে বিপুল পরিমাণ জল জমে হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই হ্রদের সামনে প্রাকৃতিক মোরেইন বা পাথর-মাটির বাঁধ থাকে। সেই বাঁধ ভেঙে গেলে জমে থাকা জল অত্যন্ত দ্রুত নীচের দিকে নেমে আসে। এর ফলেই তৈরি হতে পারে ভয়াবহ গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা GLOF।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গত কয়েক দশকে অরুণাচলের সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদগুলির আয়তনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৮৮ সালে ২৪টি এমন হ্রদের মোট এলাকা ছিল প্রায় ১১০.৭২ হেক্টর। ২০২০ সালে সংখ্যা কমে ২২ হলেও মোট এলাকা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৫.৯৩ হেক্টর।
গবেষকদের মতে, এই পরিবর্তন হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদগুলির দ্রুত সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়াই এর অন্যতম প্রধান কারণ। হিমবাহের গলনজল নীচের দিকে জমে নতুন হ্রদ তৈরি করছে এবং পুরনো হ্রদগুলির আয়তনও বাড়াচ্ছে।
এদিকে, হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে সম্ভাব্য GLOF পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির বিষয়েও নজর রাখছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন জানিয়েছেন, অরুণাচল-সহ হিমালয় সংলগ্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদগুলির পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
অরুণাচল প্রদেশে তুষারধস ও GLOF-এর ঝুঁকি রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও হ্রদগুলিতে নজরদারির পাশাপাশি বিপর্যয় ঘটলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।
প্রতীকী ছবি: হিমবাহ-সৃষ্ট পাহাড়ি হ্রদ ও GLOF-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি বোঝাতে প্রতীকী ছবি।

