নরেন্দ্রপুরে স্বাস্থ্য শিবির ,ডা. সুশান মুখার্জীর ভাবনায় অনন্য উদ্যোগ
কলকাতা: শিক্ষক দিবস ও বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের জন্য আয়োজন করা হল বিনামূল্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির। সাউথ সুপ্রয়াসের উদ্যোগে, নরেন্দ্রপুরের ৭৯ ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্র এবং বিশিষ্ট কার্ডিয়াক সার্জন ডা. সুশান মুখার্জীর বিশেষ ভাবনায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সহযোগিতায় ছিল অ্যাপোলো হাসপাতাল, নরেন্দ্রপুর।
শিবিরে প্রায় ৭০ জন প্রাক্তন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। রক্ত পরীক্ষা, ইসিজি-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নিজেদের শারীরিক সমস্যা নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেওয়ার সুযোগও পান তাঁরা।
এই স্বাস্থ্য শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ডা. সুশান মুখার্জী এবং ডা. শম্ভুনাথ মুখার্জী। অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও পুরো কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উঠে আসে অনুষ্ঠানে।
বিশ্ব হার্ট দিবসে সচেতনতার বার্তা
বিশ্ব হার্ট দিবসকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ওয়াকাথনের। হৃদ্স্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়মিত হাঁটা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
তবে এই উদ্যোগ শুধুমাত্র স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ছাত্রজীবনে যাঁদের শিক্ষা, স্নেহ এবং অনুপ্রেরণা তাঁদের জীবনের পথ দেখিয়েছে, সেই শিক্ষক ও গুরুজনদের কাছে ফিরে এসে তাঁদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়ার মধ্যেও ছিল গভীর আবেগ।
ডা. সুশান মুখার্জীর ভাবনায় প্রাক্তনীদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। দীর্ঘদিন পর প্রাক্তন শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী এবং প্রাক্তন ছাত্রদের একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রাতরাশের ব্যবস্থাও করা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল প্রসাদের আয়োজন। ফলে স্বাস্থ্য শিবিরের পাশাপাশি অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে পুরনো সম্পর্ক, স্মৃতি এবং ছাত্রজীবনের দিনগুলিকে ফিরে দেখার এক আন্তরিক পুনর্মিলন।
আয়োজকদের মতে, যাঁরা একসময় তাঁদের ছাত্রদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন, তাঁদের সুস্থতা ও কল্যাণের দিকে নজর দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল ভাবনা। স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি শিক্ষক ও প্রাক্তন ছাত্রদের সম্পর্ককে আরও একবার নতুন করে উদ্যাপন করল এই বিশেষ কর্মসূচি।

